বাতিল করা অধ্যাদেশের বিষয় সরকার বলছে শক্তিশালী করা হবে, সরকারের নিজস্ব নথি উল্টো নির্দেশ করছে (5 documents attached)

আজকের আনুষ্ঠানিক রিপোর্টে সরকারের বক্তব্য হলো যে বাতিলের উদ্দেশ্যে অধ্যাদেশ lapse করা হচ্ছে না, বরং পরবর্তীতে সেগুলিকে আরও শক্তিশালী করা হবে। যেমন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ইত্যাদি।

কিন্তু কমিটির সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা সরকারের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার দলিল এই দাবিকে সরাসরি খণ্ডন করে (বিশেষ করে, attached “জারিকৃত ১৩৩ অধ্যাদেশ এর পর্যালোচনা ও পরামর্শ”)। এই নথিতে নির্দিষ্ট বিধানসমূহের বিষয়ে যেসব আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে, সেগুলি সরকারের আইনকে শক্তিশালী করার আগ্রহের প্রমাণ না বরং স্পষ্টতই আইনকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা। সরকারের নিজস্ব কাগজপত্র থেকেই, বিধান ধরে ধরে, এটি প্রমাণযোগ্য।

(ক) বিরোধী দলের নোট অব ডিসেন্টে বিষয়গুলি বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে (বিশেষ কমিটির আনুষ্ঠানিক রিপোর্ট attached, পৃঃ ৩৭ থেকে)।

(খ) এছাড়াও ২৯ মার্চে কমিটির বৈঠক শেষ হওয়ার পরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন যে শুধু বিরোধী দলই নয়, সরকারদলীয় সাংসদরাও ডিসেন্ট দিয়েছেন (www.facebook.com/reel/4247336958848718)।

আশ্চর্যজনকভাবে সরকারদলীয় সাংসদদের ডিসেন্ট আনুষ্ঠানিক কমিটির রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তবে এই মেসেজের সাথে সংযুক্ত রয়েছে (attached: Scan_NHRC_BNP note of dissent & Scan_ED_BNP note of dissent)।

বিরোধী দলের নোট অব ডিসেন্ট, ক্ষমতাসীন দলের ডিসেন্ট এবং সরকারের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা দলিল একত্রে প্রাতিষ্ঠানিক অবনতির তিনটি স্বতন্ত্র রেখা প্রতিষ্ঠিত করে:

১) তদারকি কমিশনগুলির স্বাধীনতা ও ক্ষমতা বস্তুত খর্ব করতে চায় সরকার, যেমন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং প্রস্তাবিত পুলিশ কমিশন।
২) জোরপূর্বক গুমের পুনরাবৃত্তি রোধে যে আইনি কাঠামো গড়ে উঠতে পারত, তা কার্যকর হওয়ার আগেই ভেঙে দিতে চায় সরকার; উল্লেখযোগ্যভাবে, বিএনপি সাংসদদের ডিসেন্টের মতে, এর সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার কাঠামোও দুর্বল হবে।
৩) বিচার বিভাগ ও আর্থিক শাসনে নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্রের উপর প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ বাধাগ্রস্ত হবে।

এগুলো দেশের জন্য অশনিসংকেত।

Leave a comment