“দেশ” নামক একটা টেম্পোরারি আবেগি এনটিটি যখন আমাদের সকল চিন্তার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়, বা ধর্মের/আদর্শের চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ঊঠে, তখন মানুষ নামক মনুষ্য সমাজের প্রধান উপাদান তখন তুচ্ছ হয়ে যায়।

এই দেশবাদ নামক আফিমই আজ মানব সভ্যতার জন্য কাল হয়ে উঠেছে। কারণ, দেশবাদের মুলে হলো মানুষের স্বার্থপরতার বা এক গ্রুপ মানুষের স্বার্থপরতা!!

দু:খজনক হলেও সত্য যে, দেশবাদের এই মুর্খতা বা গান্ডুত্বই আমাদের প্রধান চিন্তার প্রতিনিধিত্ব করছে।

***

“স্বাধীনতা বিরোধী”। এই শব্দদ্বয় বাংলাদেশের বিভক্ত রাজনীতির মূল অনুঘটক। বাংলাদেশর মিডিয়াও এটাকে একটা স্ট্যান্ডার্ড ধরে তাদের সম্পাদকীয় নীতি নির্ধারণ করে থাকে। কিন্তু এই “স্বাধীনতা বিরোধী” এর সংজ্ঞাটা/ ধারণা টা আমার কাছে স্পষ্ট নয়। প্রশ্ন হলো দেশ কি এখনো পরাধীন অথবা দেশের স্বাধীনতার জন্যে যুদ্ধ চলমান। আপনাদের জন্যে একটু সহজ করে দেইঃ একজন মানুষ কিভাবে “স্বাধীনতা বিরোধী” হতে পারে। অর্থাৎ আমি কি কি কাজ করলে আমি “স্বাধীনতা বিরোধী” হবো। এটা শুধুই একটি একাডেমিক প্রশ্ন, কিন্তু এই প্রশ্নটাই বাংলাদেশ এর সামনে এখন একমাত্র প্রশ্ন জার উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ এগুবেনা।৷

Let’s try to find answer a question as to how far the phrase “anti-liberation element/person” is relevant in the context of Bangladesh. How can I be an anti-liberation person? Am I siding with the force who is fighting/trying to occupy our land? In how many ways, I can cause harms to “my motherland” which is an already independent country? In how many ways, I can threaten Bangladesh’s independence and integrity? Or what types of acts of somebody can jeopardize country’s independence or territorial integrity in the context of Bangladesh? What are the possible threats there are as far as Bangladesh’s territorial integrity and independence or in how many ways Bangladesh’s sovereignty, integrity and independence can be destroyed? Should seeking establishment of a certain philosophy as state principle be considered a threat to the independence of a country? Or should causing harms to the motherland (Bangladesh) and its sons (people) be considered an act of “anti-liberation” or “anti-country”? Should we consider looting money from the public exchequer a “crime against the country”? Should we consider destroying the institutions of a country an “anti-country act”? Can you please define who are the anti-liberation people in Bangladesh and how? It is merely an academic question. Bangladesh will continue to suffer from the bloody political conflict as long as we can find the answer to this question.

***

আমাদের মুর্খতা হলো মানচিত্রের মত আপেক্ষিক একটা প্রশাসনিক সীমারেখাকে আমরা স্বাধীনতা মনে করি এবং ফলে হেজেমনিক গোষ্ঠী (মুলত রাজনীতিক রা) সেই তথাকথিত স্বাধীনতার ্মুলা ঝুলাইয়া আমাদেরকে শোসন করতে থাকে!

***

১৯৭১ সালে ছিলো যে মানুষ শেখ মুজিবকে ভোট দিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর জন্য মনোনয়ন দিলো কিন্তু ততকালীন পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ও পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনৈতিক এলিটরা তাকে প্রধানমন্ত্রীত্ব দিলোনা।

শেখ মুজিবের প্রধানমন্ত্রীত্ব না পাওয়া বা দেশের জনগণের রায়ের প্রতিফলন না হওয়ার ঘটনাটা ঘটে মুলত একটা ইগোইস্টিক জায়গা। মার্ক্সিয় টাকাবাদি তত্ব অনুসরণ করে নয়। কদিন আগে ভূমিষ্ট হওয়া রাষ্ট্রটির দার্শনিক ভিত্তি মোটামুটি ঠিক থাকলেও সেই কাঠামোগত দর্শন বা রাস্ট্রের গঠনতন্ত্র কি হবে সেটা নিয়ে দুই উইংয়ের মধ্যে বিবাদ তইরি হয়। এবং এই বিবাদে হাওয়া দিতে থাকে অই অঞ্চলের আধিপত্যবাদি শক্তি, শুরু থেকেই। দুই উইংয়, যেগুলা কিনা কয়েক হাজার মাইলের আধিপত্যবাদি শক্তির ভুমি দ্বারা পৃথককৃত, একটি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে থাকাটা খুবই চ্যালেঞ্জিং একটা বিষয়। কোন উইং কাকে শাসন করবে এই ইগো পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটাকে দাড়াতেই দেয়নি। আর বহি:শক্তির ইন্ধন তো আছেই।

***

৬০/৭০ দশকের দ্বন্দ্বটা ছিলো ইন্টারনাল ও মুলত রাষ্ট্র পরিচালনার ইস্যু কেন্দ্রিক আর ৫২ বছর পরে বাংলাদেশে যেটা হচ্ছে সেটা হলো এই ভুখন্ডের মানুষ তার প্রতিনিধি নির্বাচন করার অধিকার হারিয়ে রীতিমতো দেশহীন হয়ে হোস্টেজে পরিনত হয়েছে। আজকে তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করছে পাশের দেশের আধিপত্যবাদি শক্তি। আজকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী কে হবে সেটা তারা ঠিক করে, আমাদের মন্ত্রী কে হবে সেটা তারা ঠিক করে, এমপি কে হবে সেটা তারা ঠিক করে, কাকে গুম করতে হবে সেটা তারা ঠিক করে, কোন সাংবাদিক কোন পত্রিকায় কাজ করতে পারবে সেটা তারা ঠিক করে, কোন সাংবাদিকের বাসায় গিয়ে পুলিশ ধমকাবে সেটাও তারা ঠিক করে! পিয়াজ, চাল, ডাল, গোস্তের দাম কত হবে সেটাও তারা ঠিক করে। মানে হলে তারা আজকে বাংলাদেশের মানুষ কোথায় থুতু ফেলবে সেটাও ঠিক করে দেয়। এটাই হলো ৫০ বছরের পার্থক্য! জনগোষ্ঠী হিসেবে আমাদের সামগ্রিক মুর্খতার কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে।

***

স্বাধীনতা আইডিয়াটা এতটায় সাব্জেক্টিভ, ইডিওসেনক্রিটিক বা ভেইগ যে এটাকে ডিফাইন করতে বা এটার বাঊন্ডারি ডিফাইন করতে যুগে যুগে সমাজ বিজ্ঞানী আর রাষ্ট্র বিজ্ঞানীদের ঘাম ঝরে যাচ্ছে। কিন্তু তারা প্রায় সবাই একমত যে রাজনীতিবীদরা এই স্বাধীনতা টার্মটা ইউজ করে শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারের জন্যে।

Leave a comment